শনিবার , অক্টোবর 31 2020
Home / বাংলাদেশ ফুটবল / বুড়োদের ফুটবল শিখিয়ে কি লাভ???

বুড়োদের ফুটবল শিখিয়ে কি লাভ???

বাংলাদেশের ফুটবলের সাফল্য বলতে মিয়ানমার টু ঢাকা। ৪ জাতি টূর্নামেন্ট থেকে সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এই হলো আমাদের অর্জন। মাঝে আরও কিছু প্রাপ্তিও আছে। তবে উল্লেখ করার মতো সাফল্য বলতে নিজ চোকে যা দেখেছি তা হলো ২০০৩ সাফে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেবার প্রায় সব ম্যাচই মাঠে বসে দেখেছি। সেই স্বাধীনতার সময় থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলের পথচলা শুরু হলেও বোধকরি আশানুরূপ আগায়নি। তার কারনও অনেক। তার মধ্যে একটি কারন আমার কাছে মনে হয় তা হলো-‘এ পর্যন্ত যতবার জাতীয় দল গড়া হয়েছে ততবারই অভিজ্ঞদের পাশাপাশি বেশি বয়সী বা বুড়োদের দিয়েই।’ কথাটা কে কিভাবে নেয় বুঝা মুশকিল। আমি বলতে চাচ্ছি যে, বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের গড় বয়স মনে হয় ৩০ কাছাকাছি তো হবেই। যখনই দল গড়া হয় তখনই বয়স্ক খেলোয়াড়দের রাখা হয়। যদিও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে মানি। আবার সে মানের বা উঠতি খেলোয়াড়দের আকাল আছে তাও মানি। মানতেই হবে। তবে আমার কাছে যেটা বেশি খটকা লাগে তাহলো আমাদের ক্লাব লেভেল বা জাতীয় দল সব যায়গাতেই একটা জিনিসের ঘাটতি আছে। যেমন ক্লাবের কোন নিজস্ব একাডেমি নেই। ফলে রুট লেভেল থেকে খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজটি ক্লাব করে না। আবার জাতীয় দলের বেলায়ও তাই ঘটছে। নিকট অতীতে চালূ হওয়া বাফুফে একাডেমি ছাড়া জাতীয় দলের জন্য রুট লেভেল থেকে খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষন দিয়ে তৈরি করার কোন ব্যবস্থাই আগে ছিল না। যাও ছিল নামকাওয়াস্তে শুধু খন্ডকালীন বয়সভিত্তিক দল গড়া হতো। সেটিও চলতো কোন টূর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে। টূর্নামেন্ট শেষ তো সব শেষ। বাকি খোজ খবর নেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

এবার আসি মূল কথায়। আমাদের দেশে ক্লাব পর্যায় শুরু হয় তৃতীয় বিভাগ থেকে। যদিও পাইওনিয়ার ফুটবল দিয়েই উঠতি খেলোয়াড়রা ফুটবলের বড় মঞ্চে প্রবেশ করে থাকে। তবে সেখানে বয়সের বাধ্যবাধকতা থাকায় সেটা পেশাদার পর্যায়ে পরে না। আর সবোর্চ্চ পর্যায় হলো বি-লিগ। আর তৃতীয় বিভাগ থেকে যেহেতু পেশাদার ফরমেটের সাথে পরিচিত হতে শুরু করে খেলোয়াড়রা তখন থেকেই তারা কোচিং পদ্ধতির সাথে পরিচিত হতে শুরু করে। তবে এখানে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে, তৃতীয় বিভাগ থেকে বি-লিগ পর্যন্ত প্রায় সব বিভাগেই আমাদের দেশী কোচরাই মূলত কোচিং করিয়ে থাকেন। আর বি-লিগ এ কিছু বিদেশী কোচ অনেক আগে থেকেই এদেশে কোচিং করিয়ে আসছেন। বি-লিগ ছাড়া অন্য কোন বিভাগে বিদেশী কোচকে দেখা যায় না। তা সম্ভবও না। কারন নিচু সারির দল গুলো আর্থিক অবস্থা অতটা ভালো নয়।

সারা দুনিয়াতে খেলোয়াড়দের তৈরি করা হয় অনেক ছোট বয়স থেকেই। ৫/৬ বছর বয়স থেকেই তাদেরকে ফুটবলের সাথে সম্পর্ক করে দেয়া হয়। এজন্য বিশ্বমানের দল গুলোর রয়েছে আলাদা আলাদা নিজস্ব ফুটবল একাডেমি। সে গুলোর মানও বিশ্বমানের। শুধুমা্ত্র তাদের নিজস্ব ফুটবল একাডেমির কারনে তারা আজ বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করতে পারছে। আসলে ফুটবল শেখার বয়স ঠিক ৭/৮ বছর বয়স থেকেই। তখনই যদি ভালো মানের প্রশিক্ষন দিয়ে কাউকে গড়ে তোলা যায় তাহলে সে ভালো মানের ফুটবলার না কোথায় যাবে। বর্তমান বিশ্বের তারকা খেলোয়াড়দের দিকে তাকালেই আমরা সব বুঝতে পারবো। তাদের ফুটবলের হাতে খড়ি কখন থেকে শুরু হয়েছিল। আর আমাদের দেশে বুড়োদের জন্য বিদেশী কোচ আনা হয়। বুড়ো খেলোয়াড়দের টেকনিক/ফর্মেশন/ট্যাকটিক্যাল ক্লাস/ভিডিও সেশন করানো হয়। বুড়োদের ফুটবল শিখিয়ে কি লাভ বলেন?? তাদের বিশ্বমানের ট্রেনিং দিলে তারা তার কতটুকুই বা আয়ত্ব করতে পারে?? বুড়োদের লোড দিলে তারা কতটুকু তা সহ্য করতে পারে?? আসলে ঠিক এজন্য বিদেশী কোচরা এসে আমাদের এখানে এসে ভালো কিছু করতে পারে না।

নেপোলিয়ান বোনাপোর্টের একটা কথা এখন খুব মনে পড়ছে, ‘তোমরা আমাকে একজন ভালো মা উপহার দাও আমি তোমাদের ভালো জাতি উপহার দিবো’। আমরা যদি ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে না পারি তাহলে যতই বিশ্বমানের কোচ আসুক না কেন বাংলাদেশে তার ফলাফল কখনই ভালো হবে না। তাই বাফুফে সহ ফুটবল সংশ্লিষ্টদের যতশীঘ্র সম্ভব এ ব্যাপারে নজর দেয়া দরকার। তা না হলে আমাদের ফুটবলের ভবিষ্যত অন্ধকারেই নিম্মজিত হবে।

About Md Shahadat Hossain

Check Also

শেষ ষোলোতে সোহেল রানার গোল

ইকবাল হাসান: ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ান ক্লাব ‘এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের’ …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।